রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে 'ইনসাফের বাংলাদেশ' গড়ার ডাক: শফিকুর রহমানের
নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং মামলাবাজির সংস্কৃতিমুক্ত এক ‘উত্তম বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আমিরে জামায়াত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, তাদের গঠিত ১১ দলীয় জোটের মাঝে কোনো কালোটাকার মালিক, ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ বা ঋণখেলাপি নেই। তিনি বলেন, "আমরা গুণে গুণে এমন প্রার্থীদের বেছে নিয়েছি যারা জনগণের আমানত রক্ষা করবে, লুণ্ঠন করবে না।"
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত আইনের প্রয়োগ সমান হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা এমন বিচারব্যবস্থা চাই যেখানে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রীকেও ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিচারালয়ে চলবে না।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচন স্রেফ ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার নির্বাচন। 'জুলাই সনদ' এবং রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়নের ওয়াদা করেন তিনি।
এছাড়া তিনি বলেন যুবকদের বেকার ভাতার বদলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দেন ।শ্রমিকদের দাবি আদায়ে রাজপথে নামার আগেই তাদের অধিকার পৌঁছে দেওয়ার নীতিমালা।নারীদের জন্য কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা।
"আমাদের লক্ষ্য সিঙ্গাপুর বা কানাডা হওয়া নয়, আমাদের লক্ষ্য একটি 'উত্তম বাংলাদেশ' হওয়া যেখানে প্রতিটি মানুষ বলবে—আমিই বাংলাদেশ।"
রাজশাহীর এই ঐতিহাসিক ময়দানে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ইনসাফের প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা' মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতির জন্য একটি ‘বাঁক পরিবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
