রাবিতে ‘শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ: চিন্তার মুক্তি কতদূর’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও আমাদের চিন্তার মুক্তি কতদূর’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ও কালের ধ্বনি এর যৌথ উদ্যোগে সিনেট ভবনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, "মুসলিম সাহিত্য সমাজ কী করেছে তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, আমরা নিজেরা কী করেছি? মুসলিম সমাজের দুরবস্থা দূর করতে আমরা কী করছি?" আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা।আমরা তা কখনোই অর্জন করতে পারিনি। বৈষম্য দূর করতে সাম্প্রতিক সময়েও রক্ত দিতে হয়েছে, তবুও পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি।" মুক্তবুদ্ধির চর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন," পড়ালেখার অভাবের কারণেই মুক্ত চিন্তার বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিজ নিজ পড়াশোনার জায়গাটা মজবুত করা শিক্ষার্থীদের প্রধান দায়িত্ব।"এবং পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হতে হবে ।এছাড়া সমাজ পরিবর্তনে আগ্রহীদের টিকে থাকার সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই সমাজকে ভিন্নভাবে দেখতে চাওয়া বা পরিবর্তন করতে চাওয়া মানুষরা অনেক সময় সমাজে টিকে থাকতে পারে না হাদির ঘটনা তার একটি দৃষ্টান্ত উদাহরণ।"
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, "মুসলিম সাহিত্য সমাজের মূল্যায়নে অতিরঞ্জন ও ভুল দৃষ্টিভঙ্গির ঝুঁকি রয়েছে। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ছিল কুসংস্কার ও শাস্ত্রানুগ দাসত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর একটি ঐতিহাসিক প্রয়াস, যা সমাজে নতুন চিন্তার সূচনা করেছিল।তিনি আরো বলেন, "১৯২৬ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত মুসলিম সাহিত্য সমাজ সাধারণ মানুষের মুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে এবং আজকের বাংলাদেশ ও তার বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।তবে অতীতকে বর্তমানের মানদণ্ডে বিচার করার প্রবণতায় সমাজের প্রকৃত অবদান অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।"ড. কাজল রশীদ শাহীন আরও বলেন," মুসলিম সাহিত্য সমাজ নিয়ে অধিকাংশ গবেষণা সংগ্রহ ও সম্পাদনাভিত্তিক হওয়ার লক্ষ্য ও তাৎপর্য নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ খুব একটা হয়নি। "
সেমিনারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক নয়ন মোরসালিনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন রাকসু বিতর্ক সম্পাদক ইমরান লস্কর।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আরিফ খান, কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজ, ইনস্টিটিউট অব কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক কামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা ও প্রমুখ
